মফস্বল সংবাদ

নোয়াখালীতে ৪ সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট

নোয়াখালীর ৪টি সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস হয় না। কলেজে যায় না বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী। ক্লাস না হওয়ায় কলেজ ক্যাম্পাসে চলে দিনভর আড্ডা। ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে অভিভাবক মহল। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পশ্চিম মাইজদী গ্রামে নোয়াখালী কলেজ। এই কলেজটি ১৯৬৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়েছে। ১৯৯৮ সালে নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুরে ১৬.৮ একর জমিতে নতুন স্থানে কলেজ স্থানান্তর হয়। এখানে ৩-৪ তলা ৪টি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনিক ভবন করা হয়নি। অন্যদিকে একটি তিনতলাবিশিষ্ট ছাত্রীবাস করা হলেও ছাত্রদের জন্য কোন ছাত্রাবাস নেই। ১৯৯১ সালে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ঘোষণা হলেও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়নি। ১৯৯৩ সালে নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ধাপে ধাপে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস, ইসলাম শিক্ষা, অর্থনীতি, দর্শন, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, গণিত, রসায়ন, উদ্ভিদ ও প্রাণীবিদ্যাসহ ১৪টি বিষয়ে অনার্স খোলা হয়েছে। পরে ৬টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করে। পুরনো স্থানে জরাজীর্ণ টিনের শেডে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ক্লাস হচ্ছে। এ কলেজে শিক্ষক সংকট চরম। অধিকাংশ বিভাগেই শিক্ষকের পদ শূন্য। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ৫ জনের মধ্যে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকসহ ২টি পদ শূন্য, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ৫ জনের মধ্যে ৩ জন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকসহ ৪টি পদ শূন্য, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩ জন এর মধ্যে ২ জন প্রভাষক পদ শূন্য, অর্থনীতি বিভাগে ১ জন প্রফেসর ও প্রভাষকসহ ২টি পদ শূন্য, বাংলা বিভাগে ৩ জন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকসহ ৪ জন শূন্যপদসহ ১৫ জন শিক্ষকদের শূন্যপদ নিয়ে কলেজটিতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান। মূলত পড়ালেখা তেমন হচ্ছে না। নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর স্বপন চন্দ্র রায় জানান, শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ না দেয়ায় ছাত্রছাত্রীদের ক্লাসে পড়ালেখায় বিঘ ঘটছে। শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য একাধিকবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে অবহিত করলেও অদ্যাবধি শিক্ষক দেয়া হয়নি।

অপর দিকে নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজেরও একই হাল। ১৯৬৫ সালে স্থাপিত ওই কলেজটি ১৯৮০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। এইচএসসি শ্রেণী নিয়ে কলেজের কার্যক্রম শুরু হলেও এটি পর্যায়ক্রমে ডিগ্রি কলেজে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এই কলেজে বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ইসলামের ইতিহাসসহ ৩ বিষয়ে অনার্স খোলা হয়েছে। ইংরেজি বিভাগে ২ জন শিক্ষকের মধ্যে ১ জন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকসহ ২ জনের পদ শূন্য। অর্থনীতি বিভাগে ১ জন প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ১ জন, ইসলামের ইতিহাস বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ১ জন ও প্রভাষক পদসহ ২ জন, দর্শন বিভাগে প্রভাষক ১ জন, ব্যবস্থাপনা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ১ জন ও প্রভাষক ২ জনসহ ৯ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। কলেজে ৩ হাজার ছাত্রী পড়াশুনা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এই কলেজে হিসাববিজ্ঞান, বাংলাসহ আরও ৬টি বিষয়ে অনার্স খোলা প্রয়োজন। ওই কলেজে একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা অতীব জরুরি। একটু বৃষ্টি হলেই কলেজ প্রাঙ্গণে ২ ফুট পানি জমে যায়। বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজে এইচএসসি শ্রেণী নিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরে ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করা হয়। ওই কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে ১ জন প্রভাষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক ১ জন, ইতিহাস বিভাগে ১ জন প্রভাষক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ১ জন প্রভাষকসহ ৪ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। হাতিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ পদ শূন্য রয়েছে, বাংলা বিভাগে প্রভাষক-১, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক-১, হিসাববিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক-১ জনসহ ৪ জন শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সামছুল কবির জানান, শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে অবহিত করার পরও শিক্ষক দেয়া হয়নি।

-মোঃ হানিফ
     
lbheading